চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ : কাজে আসবে না অটল টানেল?

চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ : কাজে আসবে না অটল টানেল? - ছবি : সংগৃহীত
অতি সম্প্রতি উদ্বোধন করা অটল টানেল নিয়ে ভারতের মিথ্যা দাবি ও অতিরঞ্জনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভারতভিত্তিক এক চীনা ফটোগ্রাফার। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই টানেল প্রসঙ্গে দাবি করেছিলেন যে এটি দেশের সীমান্ত অবকাঠামোতে নতুন শক্তি যোগান দেবে।
বুধবার পরিচয় প্রকাশ না করে এক ফটোগ্রাফার তার উইচেট অ্যাকাউন্টে এটি প্রবন্ধ পোস্ট করেন। এতে বলা হয়, টানেলটি নির্মাণে ভারত আসলে নির্ধারিত সময়ের ১৩ বছর পেছনে আছে। আর ভারতীয় মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী এটি বিশ্বের বৃহত্তম টানেলও (১০, হাজার ফুট, ৩,০৩৮ মিটার) নয়। তাছাড়া এই টানেল সারা বছর ভারতের লজিস্টিকস সাপোর্ট দেয়ার দাবিটিও অলীক কল্পনা।
পর্যবেক্ষকেরা উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের সময় যে অটল টানেল ফলপ্রসূ হবে না, তা ভারত এখনো বুঝতে পারছে না। অবশ্য এটি শেষ করতে পারার সাহস দেখিয়েছে ভারত। আর এটির নির্মাণ অনেকটাই প্রদর্শনী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ।
লেখক লাদাখের এক নারীকে বিয়ে করেছেন। তিনি অনেক বছর ধরে ওই অঞ্চলে বসবাস করেন। তিনি টানেল নির্মাণ প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, একটিমাত্র অটল টানেল এই অঞ্চলের পরিস্থিতি বদলাবে না। শীতকালে এই অঞ্চলটি সরবরাহ ও সব্জির সমস্যায় ভোগে।
তিনি উল্লেখ করেন, চীনের সিয়াচেন-তিব্বত লাইনে অন্তত ১২টি পার্বত্য পাস রয়েছে ৪,০০০ মিটারের বেশি। এগুলোর কয়েকটিই এখন টানেল। তবুও পরিবহন সমস্যা হয়ে আছে। আর অটল টানেল যে লেহ-মানালি হাইওয়ে অতিক্রম করেছে, সেখানে মাত্র তিনটি পাস রয়েছে।
রোহতাং-লেহ পাসটি দিয়ে টানেলটি অতিক্রম করেছে। এটি হিমালয়ের দক্ষিণ দিকের পাদদেশে অবস্থিত। এখানকার আবহাওয়া অনিশ্চয়তাপূর্ণ। কোনো সতর্কতা ছাড়াই প্রবল বাতাস প্রবাহিত হয়। শীতকালে তিনটি পাসই বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি উল্লেখ করেন, লাদাখকে সবসময় যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হলে তিনটি পাসেই টানেল বানাতে হবে। কিন্তু ভারতের যে দক্ষতা, তা ৫০ বছরেও হবে কিনা সন্দেহ আছে।
তিনি বলেন, এর চেয়ে ভালো হবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য অপেক্ষা করা। উষ্ণ প্রবাহ শুরু হলে বরফ গলে যাবে, ভারতে তখন আর টানেলের ওপর নির্ভার করতে হবে না।
অটল টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ২০০০ সালে। এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৭ সালে। তবে ভারতের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটি অনুমোদন করে ২০০৯ সালে। আর প্রকল্পটি শুরু হয ২০১০ সালে।
এই টানেল মানালি ও লেহর মধ্যকার দূরত্ব ৪৬ কিলোমিটার হ্রাস করবে বলে দাবি ভারতীয় মিডিয়া দাবি করেছে। কিন্তু ওই ফটোগ্রাফার বলেন, ওই ৪৬ কিলোমিটার হলো ৪৭৩ কিলোমিটার লেহ-মানালি মহাসড়কের মাত্র এক দশমাংশ।
তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে রাস্তাটি অতিক্রম করতে সময় লাগবে অন্তত ১৮ ঘণ্টা, যদি কোনো যাত্রাবিরতি না হয় এবং গড় গতি হয় ঘণ্টায় ৩০ মাইল।
ভারতীয় মিডিয়া দাবি করেছে, এটি ১০ হাজার ফুটের উঁচুতে এটিই বিশ্বের বৃহত্তম টানেল। কিন্তু ওই ফটোগ্রাফার এই দাবিও নাচক করে দিয়ে বলেন, চীনারা সত্য জানে।
চীন কিঙঘাই প্রদেশের হুয়াজিউ এক্সপ্রেসওয়েতে ২০১৭ সালে জুয়েশান নম্বর ১ টানেল নির্মাণ করে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৪০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত, এবং ৯,০৬৫ মিটার লম্বা। আর অটল টানেল ৯.০২ কিলোমিটার লম্বা।
আর চীনা প্রকল্পটি ভারতের চেয়ে অনেক ভালো বলে ওই ফটোগ্রাফার জানান।
সূত্র : গ্লোবাল টাইমস